বৃষ্টিহীন দুই সপ্তাহে শুকিয়ে যাচ্ছে আমন খেত, দুশ্চিন্তায় মৌলভীবাজারের কৃষক
- প্রকাশের সময়: ০৭:১১:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৯
বর্ষা মৌসুমের মাঝামাঝি সময়ে টানা দুই সপ্তাহ ধরে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত না হওয়ায় মৌলভীবাজারে পানির সংকটে পড়েছে আমন ধানের খেত। জেলার বিভিন্ন এলাকায় উঁচু জমিগুলো শুকিয়ে চৌচির হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও ধানের চারা লাল হয়ে যাচ্ছে, আবার পানির অভাবে দেখা দিচ্ছে রোগবালাই ও পোকার আক্রমণ। এমন পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য ক্ষতি নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন কৃষকেরা।
সরেজমিনে, জেলার কমলগঞ্জ, রাজনগর ও কুলাউড়াসহ বিভিন্ন উপজেলার কৃষিজমি ঘুরে দেখা গেছে, বৃষ্টিনির্ভর আমন খেতে পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে অপেক্ষাকৃত উঁচু জমিগুলো দ্রুত শুকিয়ে যাচ্ছে। জমির মাটিতে ফাটল ধরেছে। কোথাও সদ্য রোপণ করা চারা পানির অভাবে দুর্বল হয়ে পড়ছে।
কৃষকদের দেওয়া তথ্য মতে, আষাঢ় ও শ্রাবণের শুরুতে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায় আমন আবাদ নিয়ে তেমন শঙ্কা ছিল না। কিন্তু গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি না হওয়ায় পরিস্থিতি পাল্টে গেছে। বিচ্ছিন্নভাবে কোনো কোনো এলাকায় সামান্য বৃষ্টি হলেও তা শুকিয়ে যাওয়া কৃষিজমির পানির চাহিদা মেটানোর জন্য যথেষ্ট নয়।
কমলগঞ্জের কৃষক মুমিন মিয়া বলেন, ‘আমন ধানের আবাদ মূলত বৃষ্টির পানির ওপর নির্ভরশীল। বর্ষা মৌসুমে সাধারণত জমিতে পানির অভাব হওয়ার কথা নয়। কিন্তু এখন আকাশে মেঘ দেখা গেলেও পর্যাপ্ত বৃষ্টি হচ্ছে না। এতে কৃষকদের দুশ্চিন্তা বাড়ছে।’
রাজনগরের কৃষক আলাল মিয়া বলেন, ‘বাড়ির পাশের জমিতে সেচ মেশিনের সাহায্যে পানি দিয়ে আমনের চারা রোপণ করেছেন তিনি। কিন্তু দুই সপ্তাহ ধরে বৃষ্টি না হওয়ায় রোপণ করা চারাগুলো লালচে হয়ে যাচ্ছে। দ্রুত বৃষ্টি না হলে আবারও সেচ দিতে হবে।’
একই ধরনের শঙ্কার কথা জানিয়ে কৃষক রহিম মিয়া বলেন, ‘তিনি পাঁচ একর জমিতে আমন ধানের চারা রোপণ করেছেন। বর্ষা মৌসুম চললেও জমিতে এখন পর্যাপ্ত পানি নেই। উঁচু জমিগুলো ইতিমধ্যে শুকিয়ে গেছে। জমি শুকিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পোকার আক্রমণও বাড়ছে। কয়েক দিনের মধ্যে ভালো বৃষ্টি না হলে বাড়তি খরচ করে সেচের ব্যবস্থা করতে হবে।’
কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, আমন ধানের প্রাথমিক বৃদ্ধির সময়ে জমিতে প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা থাকা জরুরি। দীর্ঘ সময় পানি সংকট থাকলে চারার স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি রোগ ও পোকার আক্রমণের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। এতে কৃষকের উৎপাদন ব্যয়ও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে মৌলভীবাজারে প্রায় এক লাখ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে জেলার অধিকাংশ কৃষক আমনের চারা রোপণ করেছেন। কৃষি বিভাগ আশা করছে, শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে।
মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জালাল উদ্দীন বলেন, ‘আউশ ধান কাটার পর অনেক জমি আমন রোপণের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং বেশির ভাগ জমিতেই ইতিমধ্যে চারা রোপণ সম্পন্ন হয়েছে। বৃষ্টির অভাবে কিছু আমন খেত শুকিয়ে গেলেও এখনই বড় ধরনের শঙ্কার কারণ দেখছেন না তিনি।’
তিনি বলেন, ‘এখনো বর্ষা মৌসুম চলছে। সামনে বৃষ্টি হলে মাঠের পানির সংকট কেটে যাবে। তবে কৃষকদের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজন অনুযায়ী কৃষি বিভাগের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।’
বর্ষার মৌসুমে বৃষ্টির অপেক্ষায় এখন মৌলভীবাজারের কৃষক। দ্রুত পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হলে বৃষ্টিনির্ভর আমন আবাদে বাড়তি সেচের প্রয়োজন হবে, যা কৃষকের খরচ বাড়ানোর পাশাপাশি চলতি মৌসুমের ফলন নিয়েও নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।







